কম্পিউটার বেসিক নলেজ জেনে নিন | কম্পিউটার চালু করার নিয়ম

বর্তমান যুগ আধুনিকতার যুগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে কম্পিউটার শিক্ষা অন্যতম একটি শিক্ষা। কম্পিউটার শিক্ষা না থাকলেও কম্পিউটার বেসিক নলেজ থাকা অনেক জরুরী।

এ প্রজন্মের জন্য কম্পিউটার হচ্ছে একটি বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি যেটি আয়ত্ত করতে হবে। বর্তমান সময়ে সব ক্ষেত্রেই কম্পিউটার দক্ষদের চাহিদা প্রচুর। আজ আধুনিক বিশ্বের দৌড়ে প্রায় সকলে কম্পিউটার চালাতে শিখেছে।

অনেকে শিখতেছেন, আবার অনেকেই কম্পিউটার ব্যাপারে কিছু জানেন না। তাদের মধ্যে কম্পিউটার বেসিক নলেজ নিয়ে কোন ধারণা নেই। যার কারণে তারা আধুনিক বিশ্বে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। আপনি যদি কম্পিউটার বেসিক নলেজ নিতে চান।

তাহলে আমার আজকের আলোচনাটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। আশা করছি আপনি আমার আজকের সম্পূর্ণ পোস্টটি ভালোভাবে পড়বেন। এতে আপনার উপকার হবে। আপনার উপকার হলে আমি নিজের এই পোষ্টকে সার্থক মনে করব।

Read More : কম্পিউটার বা ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয় এবং ফাস্ট করার উপায়

কম্পিউটার কি?

কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র। যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারা সহজ করে। তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর উপর নির্ধারণ করে তৈরি করা হয়েছে।

যেটি বাইনারি কোডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইনপুট গ্রহণ, আউটপুট প্রদান, হিসাব সকল কিছু পরিচালনার জন্য কম্পিউটার বাইনারি কোডের ব্যবহার করে। অর্থাৎ, কম্পিউটারের ভাষাকে বাইনারি কোড বলা হয়।

কম্পিউটার হলো এমন একটি আধুনিক যন্ত্র যেটি ইনপুট এর মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করে এবং আউটপুটের মাধ্যমে প্রদর্শন করে।

কম্পিউটার বেসিক নলেজ ধারাবাহিকভাবে

সর্বপ্রথম আমাদেরকে জানতে হবে কম্পিউটারের কয়টি অংশ রয়েছে। একটি সাধারণ কম্পিউটারের মোট চারটি অংশ থাকে। অংশগুলো হচ্ছে –

  1. সিপিইউ বা ডেস্কটপ : প্রত্যেকটি কম্পিউটারের একটি বক্সের মতো অংশ থাকে। যার পেছন থেকে তারগুলো মনিটর, কিবোর্ড এবং মাউসে কানেক্ট হয়। এই বড় বক্সটিকেই সিপিইউ বা ডেস্কটপ বলে।
  2. মনিটর : মনিটরের সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। আমরা যে টেলিভিশন দেখি। সে টেলিভিশনের মতোই মনিটর থাকে। অর্থাৎ কম্পিউটারের স্ক্রিন কে মনিটর বলা হয়।
  3. কিবোর্ড : কিবোর্ড হচ্ছে অনেকগুলো বোতামের সমন্বয়ে তৈরি একটি বোর্ড। আমরা কম্পিউটারের সামনে একটি আয়তাকার বোর্ড দেখতে পায় যার মধ্যে অনেকগুলো সংখ্যা ও ইংরেজি বর্ণ লেখা থাকে। এটিকে কীবোর্ড বলে।
  4. মাউস : মাউস মানে ইঁদুর। কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে মাউস ইঁদুর নয়। কম্পিউটারের স্ক্রিনে আপনারা একটি ছোট কারসর নড়াচড়া করতে দেখেন। আর সামনে টেবিলে একটি ছোট মুঠোর সমান যন্ত্র থাকে। যেটিতে দুটি বাটন থাকে। কম্পিউটারের স্ক্রিনে কারসর নড়াচড়া এই মাউস দিয়েই হয়।

Read More : ল্যাপটপে বাংলা লেখার নিয়ম । ৩টি চমৎকার নিয়ম ও সফটওয়্যার

তাছাড়াও কম্পিউটারকে কাজের উপর ভিত্তি করে ২ ভাগে ভাগ করা হয়।

  • ইনপুট
  • আউটপুট

কম্পিউটারের ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইসগুলো কি কি?

যে ডিভাইস দিয়ে কম্পিউটারকে কমান্ড দেওয়া হয় সেগুলোকে কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইস বলে। অপরদিকে কম্পিউটার বাহ্যিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া প্রদান করে সেটি হলো আউটপুট।

অর্থাৎ ইনপুট হল কম্পিউটারে বাইরে থেকে ভিতরে কমান্ড দেওয়া। আর আউট হচ্ছে কম্পিউটারের ভিতর থেকে বাইরের দিকে প্রতিক্রিয়া আসা। কম্পিউটারের ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইসগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হল।

ইনপুটআউটপুট
মাউসমনিটর
কি-বোর্ডপ্রিন্টার
মাইক্রোফোনস্পিকার
ক্যামেরাহেডফোন
স্ক্যানারপ্রজেক্টর
কম্পিউটারের ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইসগুলো কি কি?

Read More : নতুন ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার নিয়ম জেনে নিন | ৫টি কার্যকর নিয়ম

সিপিইউ বা ডেস্কটপের মধ্যে কি কি থাকে?

সিপিইউ বা ডেক্সটপ হচ্ছে একটি কম্পিউটারের মস্তিষ্ক। যেমন মানুষের পুরো শরীরকে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে। তেমনি পুরো কম্পিউটারকে সিপিইউ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যারা জানিনা, তারা মনে করে থাকি যে মনিটরই হচ্ছে কম্পিউটার।

কারণ মনিটরে আমরা সব কিছু দেখি। কিন্তু এটা সত্য নয়। মনিটর শুধু হচ্ছে একটি ডিসপ্লে। যেটি আপনার কম্পিউটারের বাহ্যিক অবস্থা দেখায়। বাকি আপনার সকল কার্যক্রম সিপিইউ এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এজন্যই সিপিইউ থেকে এতগুলো তার মনিটর কিবোর্ড এবং মাউসে প্রবেশ করে।

যার কারণ হচ্ছে সকল ডিভাইসগুলো নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সিপিইউর সাথে কানেক্ট হতে হয়। এই সিপিইউ বা ডেক্সটপ এর ভিতরে অনেক কিছু থাকে। এর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল।

  1. মাদারবোর্ড
  2. প্রসেসর
  3. র‍্যাম
  4. পাওয়ার সাপ্লাই
  5. হার্ডডিস্ক
  6. এসএসডি কার্ড
  7. গ্রাফিক্স কার্ড
  8. এছাড়াও যে বক্সের মধ্যে পুরো সিপিইউ থাকে। অর্থাৎ এর বাইরে স্তরকে ক্যাচিং বলা হয়।

কম্পিউটার চালু করার পদ্ধতি

কম্পিউটারের সিপিইউ বা ডেক্সটপ এর পাওয়ার বাটন প্রেস করে কম্পিউটার চালু করতে হয়। এটি হচ্ছে কম্পিউটার চালু করার পদ্ধতি। পাওয়ার বাটন চেনার উপায় হচ্ছে, পাওয়ার বাটন এর উপর পাওয়ার চিহ্ন থাকে।

সিপিইউ এর সামনের দিকে এই বাটনটি থাকে। সিপিইউতে দুইটি বাটন থাকে। একটি পাওয়ার বাটন এবং একটি রিস্টার্ট বাটন। রিস্টার্ট বাটন ছোট হয় এবং পাওয়ার বাটন বড় হয়।

কাজেই যে বাটনটি বড় হবে বুঝে নিবেন সেটিই কম্পিউটারের পাওয়ার বাটন। কম্পিউটারে বিদ্যুৎ সংযোগ করার পর এই পাওয়ার বাটন প্রেস করলে আপনার কম্পিউটার চালু হয়ে যাবে।

কম্পিউটার চালু করার পরও অনেকগুলো কাজ রয়েছে যেগুলি করতে হয়। যেমন কম্পিউটারের স্ক্রিন রিফ্রেশ করা। কম্পিউটার চালু করার পর প্রাথমিক কাজ হচ্ছে কম্পিউটার রিফ্রেশ করা।

Read More : পুরাতন ল্যাপটপ কোথায় পাওয়া যায়? কেনার আগে করণীয় কি?

কম্পিউটার চালু হওয়ার পর রিফ্রেশ করার জন্য আপনাকে মাউস থেকে ডান ক্লিক করতে হবে। ডান ক্লিক করার পর আপনার সামনে রিফ্রেশ অপশন দেখা যাবে। তার উপর বাম ক্লিক করতে হবে।

এভাবে আপনি কম্পিউটার ডিসপ্লে রিফ্রেশ করবেন। তাছাড়া কিবোর্ড থেকেও কম্পিউটার রিফ্রেশ করা যায়। মাউস থেকে একবার রিফ্রেস করার পর কিবোর্ডের F5 বাটন প্রেস করলে রিফ্রেশ হয়।

কম্পিউটার এর প্রয়োজনিয়তা

বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক বিশ্বের সকল কাজের জন্যই কম্পিউটার প্রয়োজন।

চাকুরী, বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়ে। কম্পিউটার ছাড়া এই যুগে কোন কাজ করার কল্পনাও করা যায় না। নিচে কম্পিউটারের কয়েকটি প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো।

  1. জমি নিবন্ধন এবং খাজনা গ্রহনে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
  2. শিক্ষাক্ষেত্রে বই টাইপিং করার জন্য কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়ে।
  3. জন্ম নিবন্ধন এর জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
  4. বিশ্বের আনাচে-কানাচে ওয়েবসাইট তৈরি, চালনা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
  5. বর্তমান সময়ে আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ।
  6. বিনোদন জগতে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়।
  7. চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে।

এছাড়াও যেদিকেই নজর যায় সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তাই আমরা কম্পিউটার এর প্রয়োজনীয়তা কত বুঝতে পারি। আগেই বলেছি আধুনিক বিশ্বে কোন কাজ কম্পিউটার ছাড়া সম্ভব বলে চিন্তাও করা যায় না।

Conclusion

আজকের আলোচনায় কম্পিউটার বেসিক নলেজ সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া কম্পিউটার সম্পর্কে ধারাবাহিক আলোচনা, কম্পিউটার চালু করার পদ্ধতি এর প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।

ইউজারের কথা বিবেচনা করে যত সহজে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা যায় সেটি অনুসরণ করা হয়েছে। আশা করছি আলোচনাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। এবং আপনার উপকারে আসবে। নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Read More : ল্যাপটপে কিভাবে অ্যাপস ডাউনলোড করব?

FAQ

কম্পিউটারের বেসিক জ্ঞান কি কি?

কম্পিউটার চালু করা, এর যন্ত্রাংশের ব্যবহার, কম্পিউটার সম্পূর্ণরূপে সেটআপ করা, সাধারণভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানা কম্পিউটারের বেসিক নলেজের অন্তর্ভুক্ত।

কম্পিউটার জ্ঞানের গুরুত্ব

বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক বিশ্বের সকল কাজের জন্যই কম্পিউটার প্রয়োজন। চাকুরী, বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়ে।

আমরা কেন কম্পিউটার ব্যবহার করি?

যেদিকেই নজর যায় সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নিজের দৈনন্দিন জীবনের কাজ-কর্ম, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করি।

কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় কোনটি প্রথম ব্যবহার করা হয়?

কম্পিউটার চালু হওয়ার পর সর্বপ্রথম মনিটরের স্ক্রিনে আউটপুট দেখা যায়। এরপর আমরা রিফ্রেশ করার জন্য কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় মাউস প্রথম ব্যবহার করি। অনেকে কম্পিউটারে সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখেন। তারা সর্বপ্রথম কি-বোর্ড ব্যবহার করেন।

ডেক্সটপ বলতে কী বোঝায়?

সিপিইউ বা ডেক্সটপ হচ্ছে একটি কম্পিউটারের মস্তিষ্ক। যেমন মানুষের পুরো শরীরকে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে। তেমনি পুরো কম্পিউটারকে সিপিইউ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যেকটি কম্পিউটারের একটি বক্সের মতো অংশ থাকে। যার পেছন থেকে তারগুলো মনিটর, কিবোর্ড এবং মাউসে কানেক্ট হয়। এই বড় বক্সটিকেই সিপিইউ বা ডেস্কটপ বলে।

কম্পিউটার এর কাজ কি?

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজ-কর্মে সহায়তা প্রদান, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হলো কম্পিউটারের মূল কাজ। এছাড়াও কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করা যায়। অনেকে ঘরে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে অফিসের কাজ, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং করে থাকেন।

By AzimAdmin

Hi, I am a professional Blogger & SEO Expert. I am working on this field since 2019. I've a huge experience in my profession. I also worked on so many projects and websites.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *