ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন ব্যবহারের নিয়ম - এর উপকারিতা ও দাম

বন্ধুরা আবারো উপস্থিত হয়েছি আপনাদের সামনে একটি তথ্যবহুল পোস্ট নিয়ে। আজকের পোস্টে একটি লোশন নিয়ে কথা বলব। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটে এই লোশনটি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই লোশন টি নাম হচ্ছে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন।

এই লোশনকে ঔষধ বললেও কোন ভুল হবে না। কেননা ইতোপূর্বেই এই একই কোম্পানির একই নামে ক্যাপসুল মার্কেটে এসেছে। যেটি অনেকেই ব্যবহার করেছেন আবার, অনেকে এখনো ব্যবহার করছেন। তাই আজকে আমরা এই লোশন নিয়ে সম্পূর্ণ বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সবার আগে জানাবো ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন ব্যবহারের নিয়ম। তাছাড়া এর উপকারিতা বা কাজ, পার্শপ্রতিক্রিয়া, রিভিউ ও দাম আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। এসকল তথ্য ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে তাই সম্পূর্ণ পোস্ট ভালোভাবে পড়ার অনুরোধ রইলো।

Read More : ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম – ক্যালামাইন লোশন দাম ও কাজ

ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন ব্যবহারের নিয়ম

যেহেতু এটি একটি লোশন তাই এই এটি লোশন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যেভাবে বাকি লোশনগুলো ব্যবহার করেন ঠিক সেভাবেই এই লোশনটি ব্যবহার করবেন। তবে এটিও মনে রাখতে হবে যে এটি একটি ত্বক সৌন্দর্য করার লোশন। কাজেই কিছু কিছু নিয়ম মেনে লোশনটি ব্যবহার করলে এর উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।

  1. লোশনটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা ব্যবহার করে।
  2. লোশনটি ব্যবহার করার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে ত্বক জীবাণুমুক্ত করার পর।
  3. পারলে গোসল করার পর এই লোশনটি ব্যবহার করা উত্তম।
  4. অন্যান্য বডি লোশনের মতো এ লোশনটিও হাতের মধ্যে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে।
  5. তবে খেয়াল রাখতে হবে যে লোশন লাগানোর সাথে সাথে আপনি যেন নিজের ত্বক ধুয়ে না ফেলেন।
  6. বেশ কিছুক্ষণ প্রায় ২-৩ ঘন্টা এই লোশনটি ত্বকের লাগিয়ে রাখতে হবে।
  7. পারলে ধুয়া-ধুয়ি না করে এভাবেই ছেড়ে দিবেন।
  8. যেহেতু এই লোশনটি দাবি করেছে ১০ দিনের মধ্যে লোশনটি আপনার ত্বক ফর্সা করে দিবে।
  9. কাজেই আপনি প্রথমে ১০ দিন লোশনটি ব্যবহার করবেন।
  10. এরপর যদি আপনি এই লোশনের মাধ্যমে কোন সুফল পেয়ে যান তাহলে লোশনটি ব্যবহার করুন।
  11. অন্যথা লোশনটি বেশি ব্যবহার করার কোন দরকার নেই।

আমরা এই লোশনটি ব্যবহার করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে গিয়েছি। এবার জানবো লোশনটি আমাদের কি কি উপকার করে থাকবে। আদৌ কি লোশনটি কোনো উপকার করে নাকি এটি মিথ্যা? এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও রিভিউ সম্পর্কেও জেনে নেব। এই সকল তথ্য আপনি নিচের দিকে পেয়ে যাবেন।

ফ্রোজেন কোলাজেন এর উপকারিতা

এই লোশনটির দাবি অনুযায়ী এর উপকারিতাসমূহ হলো।

  • ত্বক ফর্সা করা।
  • ত্বককে ভিতর ও বাইরে থেকে গ্লোয়িং বানানো।
  • ত্বকের ডেমেজগুলো ঠিক করা।
  • ত্বকের ম’রে যাওয়া কোষগুলোকে পরিষ্কার করা।
  • ১০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা দেখানো ও আপনাকে ফর্সা করা।

Read More : লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম | লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম

ফ্রোজেন কোলাজেন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মার্কেটে যেসকন প্রসাধনী দাবি করে তারা অল্পদিনের মধ্যে আপনাকে ফর্সা করবে কিংবা আপনার ত্বককে ফর্সা করবে আর এটি যদি সত্য হয়। তাহলে জেনে নিন যে সেই প্রসাধনীতে অবস্যই অধিক পরিমানে মার্কারি ব্যবহার করা হয়েছে।

কেবলমাত্র মার্কারি নয় বরং আরো অনেক ক্ষতিকারক কেমিক্যাল সেই প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থাকতে পারে। যা আপনার ত্বক ও আপনার স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর। আর যদি এই ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটির কথা বলি তাহলে এই লোশনটিও ঠিক একই জিনিস দাবি করে।

তারা দাবি করে ১০ দিনের মধ্যে আপনার ত্বককে ফর্সা করবে। কাজেই হতে পারে এই লোশনের অধিক পরিমানে মার্কারি ব্যবহার করা থাকতে পারে। মার্কারি আপনার বাহ্যিক ত্বককে পুড়িয়ে ফেলে। যার কারণে ভিতরে থাকা নতুন ত্বক উভরে আসে।

যেটি দেখতে আমাদের চোখে ফর্সা মনে হয়। কিন্তু এরকম মার্কারিযুক্ত প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হতে পারে। সাথে আপনি জটিলতম রোগ-ব্যাধিরও শিকার হতে পারেন। তাই সাবধান। ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনে যদি মার্কারি থেকে থাকে এর ফলে আপনার যা যা সমস্যা হবে –

➢ ত্বক অনেকটা ডেমেজ হয়ে যাওয়া।
➢ যতটুকু ত্বক ফর্সা হয়েছিল তার দ্বিগুন কালো হয়ে যাওয়া।
➢ আগুনের কাছে যেতে না পারা।
➢ রোদে যেতে না পারা।
➢ ত্বকে নানা ধরণের জ্বালাপোড়া শুরু হওয়া।

যারা এই লোশনটি ব্যবহার করেছেন তাদের রিভিউ

যারা এই লোশনটি ব্যবহার করেছেন এই লোশন নিয়ে তাদের রিভিউ অনেকটা মিশ্র। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ এই লোশনটিকে কোনো কাজেরই মনে করেন না। দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পরেও তারা নাকি আর কোনো সুফল পাননি।

যারা এই লোশনটি ব্যবহার করেছেন তাদের রিভিউ
Read MoreTop 5 Night Cream in Bangladesh (low to high Budget Cream)

এমনকি তারা এই লোশনটির ১০ দিনে ত্বক ফর্সা করার দাবীটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন। সাথে লোশনটি কেনার ফলে তাদের টাকা লস হয়েছে এমন মন্তব্যও রয়েছে। অপরদিকে কিছু সংখ্যাক লোকজন আছেন যারা বলেছেন এই লোশনটি নাকি তাদের কাজে এসেছে। তারা ১০ দিন ব্যবহার করে কিছুটা সুফল পেয়েছেন।

যারা এই লোশনটি ব্যবহার করেছেন তাদের রিভিউ

আমরা লোশনের কোম্পানি নিয়ে কোনো খারাব মন্তব্য করছি না। এমনও হতে পারে এই লোশনের নকল প্রোডাক্ট মার্কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। যারা ক্রয় করছেন তারা নকল লোশনটি ক্রয় করছেন। যার ফলে তারা কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

যারা এই লোশনটি ব্যবহার করেছেন তাদের রিভিউ

তবে এই লোশনটি নিয়ে বেশিরভাগ রিভিউ নেতিবাচক (negative) রয়েছে। তাই আপনি যদি লোশনটি ক্রয় করতে চান কিংবা ব্যবহার করতে চান সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে করুন। প্রথমে ১০ দিন ব্যবহার করে দেখুন। যদি সুফল পান তাহলে ব্যবহার করুন নাহলে ব্যবহার করা ছেড়ে দিন।

ফ্রোজেন কোলাজেন আসল নকল

ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনের গায়ে লেখা থাকে এটি থাইল্যান্ডের প্রোডাক্ট।অনেকে আর সাথে সম্মতি দিয়েছেন। তবে অনেকে দাবি করেন কিছু অসাধু লোক লোশনটি বাংলাদেশেই উৎপাদন করছে এবং এটিকে থাইল্যান্ডের লোশন বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আসলে কে সত্য বলছে এটা জানা যায় নি।

তবে আপনি যদি লোশনটি দ্বারা উপকৃত হন তবে এটি কোথায় তৈরী হয়েছে তা নিয়ে মাথা ব্যথার কোনো কারণ থাকার কথা না। এখন কথা হচ্ছে লোশনটি আসল-নকল চেনা নিয়ে। আর জন্য বলবো তেমন কোনো প্রতীক বা চিহ্ন নেই যার দ্বারা কোনটি আসল বা নকল চেনা যাবে।

অনেকে বলেছেন তারা লোশনটি কেনার পর বিক্রেতা তাদেরকে নকল লোশন দিয়ে দিয়েছেন। আর জন্য সবচেয়ে ভালো হবে আপনি কোনো বিশ্বস্ত মাধ্যম বা দোকানদারের কাছ থেকেই এই লোশনটি ক্রয় করুন। নাহলে হতে পারে অন্য কেউ নকল জিনিস দিয়ে দিবে।

ফ্রোজেন কোলাজেন দাম কত?

ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন বিভিন্ন কসমেটিকের (প্রসাধনী) দোকানে পাওয়া যায়। এছাড়াও অনেকগুলো অনলাইন মাধ্যমেও উপলদ্ধ রয়েছে। ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে এই লোশনটি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে সকল ক্ষেত্রে এই লোশনটির দামে তারতম্য দেখা যায়।

এই লোশনটির আসল মূল্য কেউ জানেনা। সবাই নিজের মতো করে নিজের দামে বিক্রি করছেন। যার প্রধান কারণ হচ্ছে লোশনটির গাঁয়ে কোনো মূল্য লেখা নেই। লোশনটি থাইল্যান্ডের তৈরী বলা হয় তাই এর প্যাকেটে কোনো এমআরপি মূল্য লেখা নেই।

তবে আমরা যেটি জানতে পেরেছি বিভিন্ন কসমেটিকের দোকানে ২৫০ গ্রাম ওজনে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটি ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়। অপরদিকে অনলাইনে ২৫০ গ্রাম ওজনে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটি ১০০০/- টাকা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

Read MoreTop 5 Neurologist in Bangladesh – Neuromedicine Experts BD

FAQ

Frozen Collagen Lotion এর কাজ কি?

Frozen Collagen Lotion এর দাবি অনুযায়ী এর কাজ হচ্ছে – ত্বক ফর্সা করা, ত্বককে ভিতর ও বাইরে থেকে গ্লোয়িং বানানো, ত্বকের ডেমেজগুলো ঠিক করা, ত্বকের ম’রে যাওয়া (Dead Skin cells) কোষগুলোকে পরিষ্কার করা এবং ১০ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা দেখানো ও আপনাকে ফর্সা করা।

হিমায়িত কোলাজেন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

হিমায়িত কোলাজেন লোশনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কোথাও তেমনভাবে আলোচনা করা হয়নি। তবে লোশনটি নিয়ে একটি সন্দেহ কাজ করে যে অতীতে অধিক পরিমানে মার্কারি ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো আছে। যেগুলোর পার্শপ্রতিক্রিয়া হলো – ত্বক ডেমেজ হওয়া, জ্বালাপোড়া শুরু হওয়া, ত্বকের রং অস্বাভাবিক বা কালো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

Frozen Collagen এর দাম কত?

আমাদের রিসার্চ অনুযায়ী বিভিন্ন কসমেটিকের দোকানে ২৫০ গ্রাম ওজনে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটি ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়। অপরদিকে অনলাইনে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটি ১০০০/- টাকা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

Frozen Collagen কি সত্যি কাজ করে?

Frozen Collagen কি সত্যি কাজ করে কি না এ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কেননা এর ব্যবহারকারীগণ লোশনটির কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যাবহারকারি লোশনটিকে অকেজো বলেছেন। লোশনটি তেমন কোনো কাজের না এটি তাদের মন্তব্য।

উপসংহার

আজকের পোস্টে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন ব্যবহারের নিয়ম আপনাদের মাঝে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন এর কাজ কি, এর পার্শপ্রতিক্রিয়া ও এর দাম বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। অতিরিক্তভাবে ফ্রোজেন কোলাজেন লোশনটি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মন্তব্য ও রিভিউ কি সেটি আলোচনা করেছি।

আশা করছি পোস্টটি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়েছে। তাই পোস্টটি শেয়ার করে সকলের কাছে পৌঁছে দিন। কোনো কিছু বলার ও জানার থাকলে কমেন্ট করুন। শতভাগ উত্তর দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

By AzimAdmin

Hi, I am a professional Blogger & SEO Expert. I am working on this field since 2019. I've a huge experience in my profession. I also worked on so many projects and websites.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *