ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম - ক্যালামাইন লোশন দাম ও কাজ

ক্যালামাইন লোশন বাংলাদেশ-এ অত্যান্ত সহজলভ্য একটি লোশন। ক্যালামাইন লোশনকে ঔষধ বললে কোন ভুল হবে না। এটি একটি ঔষধ। এই ঔষধটি লোশন এর আকারে পাওয়া যায়। ক্যালামাইন লোশন ১০০ মিলি বোতলে সহজলভ্য।

এই বোতলের মধ্যে হালকা গোলাপি রঙের লোশনের আকারে ঔষধ বিদ্যমান থাকে। যেটি চিকিৎসাক্ষেত্রে লোকজন নিজের ত্বকে লাগিয়ে থাকেন। আজকে এই লোশন নিয়ে আলোচনা করব। বিশেষ করে জানানো হবে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে।

তাছাড়া এই লোশনের কাজ কি, এর দাম কত, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ সকল কিছু জানতে আমাদের আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়ুন।

Read More : লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম | লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম

ক্যালামাইন ঔষধটি লোশন আঁকারে থাকে। কাজেই বুঝতে পারছেন এটি ত্বকের উপর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যবহার কিভাবে করবেন সেটি জানা নেই। এই লোশনটি ব্যবহার করা অনেক সহজ। নিচের তথ্যগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন তারপর আপনি লোশনটি ব্যবহার করার নিয়ম জেনে যাবেন।

  1. শরীরের যে স্থানে বা ত্বকে লোশনটি ব্যবহার করবেন। ব্যবহারের আগে অবশ্যই সেই স্থান বা ত্বক হালকা সুষম গরম পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিবেন।
  2. এরপরে আপনার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী লোশন হাতে নিয়ে সেই স্থানে লাগাতে হবে।
  3. যাদের প্রেসক্রিপশনে লোশনটি ব্যবহার করার পরিমাণ উল্লেখ নেই তারা নিজের ধারণা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ লোশন নিয়ে সেই স্থানে লাগিয়ে নিবেন।
  4. লোশনটি ব্যবহার করার পর সেই স্থানে পানি লাগানো যাবে না।
  5. এই লোশনটি ব্যবহার করার কিছু সময়ের মধ্যে লোশনটি ত্বকে শুকিয়ে যাবে।
  6. এরপর কমপক্ষে ২-৩ ঘন্টা লোশনটি সেভাবেই ত্বকে ছেড়ে দিতে হবে।
  7. এরপর আপনি চাইলে সেই স্থানটি বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধৌত করতে পারেন।
  8. যতক্ষণ না আপনার সমস্যা ঠিক হচ্ছে আপনি এই লোশনটি ব্যবহার করবেন।
  9. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ২-৩ দিনের মধ্যে লোশনটি নিজের কার্যকারীতা দেখিয়ে দেয়।
  10. তাই ২-৩ দিনের মধ্যে যাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তারা এই লোশনটি ব্যবহার করা ছেড়ে দিবেন।

সতর্কতা

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারকারীদের কিছু কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। এসব সতর্কতা না মানলে হতে পারে লোশনটি আপনার উপকার তো বটে উল্টো ক্ষতি করে ফেলবে। লোশনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিচের সতর্কতাসমূহ মানা জরুরি।

  • লোশনটি কেবলমাত্র শরীরের বাহ্যিক ত্বকের ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
  • কাজেই বাহ্যিক ব্যবহারযোগ্য এই লোশনটি অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
  • বিশেষ করে নাক, কান, চোখ, মুখ ইত্যাদি অঙ্গে এই লোশনটি ব্যবহার করবেন না।
  • যারা গোপনাঙ্গে বা যৌনাঙ্গে লোশনটি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তারাও সেখানে লোশনটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • লোশনটি অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখবেন।

ক্যালামাইন লোশন এর কাজ কি

আমরা তো ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার ও এর সতর্কতা সম্পর্কে জানতে পারলাম। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘামাচি হয়ে থাকে। যার কারণে আমাদের ত্বক অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কালামাইন লোশনটি মূলত ঘামাচির জন্য ব্যবহার করা হয়।

ঘামাচির চিকিৎসায় এই লোশনটি অত্যন্ত কার্যকর। ঘামাচি ছাড়াও এই লোশনটির আরো অনেক কার্যকারিতা রয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি রোগের চিকিৎসা এই লোশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যেমন :

  1. ত্বকের জ্বালাপোড়া
  2. ঘামাচি বা দাহ-এর কারণে সৃষ্ট চুলকানি
  3. ব্যথা
  4. অস্বস্তিভাব এবং
  5. রোদে পোড়া ত্বক উপশমে লোশনটি চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

Read More : Top 5 Night Cream in Bangladesh (low to high Budget Cream)

ক্যালামাইন লোশন এর কাজ কি

গর্ভবতী মহিলারা এই লোশনটি ব্যবহার করতে পারবেন কি?

যেহেতু এই লোশনটি গোপনাঙ্গে বা যৌনাঙ্গে ব্যবহার করা নিষেধ। এছাড়াও কেবলমাত্র বাহ্যিক ত্বকে ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। চোখ, মুখ, কান, নাক ইত্যাদি অঙ্গেও ব্যবহার করা যায় না। কাজেই এই লোশন থেকে গর্ভবতী মহিলাদের কোন প্রকার ক্ষতি আছে বলে মনে হয় না।

তবে গর্ভবতী মহিলারা এই লোশনটি ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন যে আপনার পেটের কোন স্থানে এই লোশনটি ব্যবহার করবেন না। অর্থাৎ আপনার শিশুর জন্য সামান্যতম ঝুঁকিপূর্ণ হয় এমন কোন কাজ করা দরকার নেই।

হোক লোশনটি আপনার জন্য উপকারী বা অপকারী কিন্তু আপনার শিশুর থেকে একটি দূরে রাখবেন। গর্ভাবস্থায় পেটের আশেপাশে এ লোশনটি ব্যবহার করবেন না। কেবলমাত্র বাহ্যিক ত্বকে অর্থাৎ হাত-পায়ে লোশনটি ব্যবহার করুন। এছাড়াও প্রত্যেকটি ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন নেওয়া জরুরি।

আপনি যেহেতু গর্ভবতী তাই নিজের শিশুর শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার লোশন, মলম বা ওষুধ সেবন করবেন না। আগে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন তারপর এই লোশনটি ব্যবহার করা আপনার জন্য উত্তম।

ক্যালামাইন লোশন এর পার্শপ্রতিক্রিয়া

ক্যালামাইন লোশন এর ব্যবহার বিধি, সতর্কতা এবং বিভিন্ন অবস্থায় এর ব্যবহারের তথ্যগুলো জেনে গেছি। কিন্তু প্রত্যেকটি মেডিসিনের একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা সাইডএফেক্ট থেকে থাকে। তেমনি ক্যালামাইন লোশন এর কিছু কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এ লোশন মাত্রাধিক ব্যবহার করে ফেললে বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার না করলে। অর্থাৎ ব্যবহার বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে এইসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। ক্যালামাইন লোশন লোশন এর পার্শপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো –

পার্শপ্রতিক্রিয়া
➢ ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হওয়া।
➢ ত্বক লাল হয়ে হালকা ফুলে যাওয়া।
➢ ত্বকে সামান্য/মাঝারি/বড় আকারে ফোস্কা হওয়া।
➢ এলার্জি রোগীদের সমস্যা একটু বেড়ে যাওয়া।
➢ এলার্জি বেড়ে যাওয়া।
➢ লোশন ব্যবহারের পরে গলা ও মুখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

এই সমস্যা গুলো অনেক কম লোকেরই হয়ে থাকে। কারণ এখন পর্যন্ত এই ওষুধের তেমন কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। হাইপার সেনসিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য মেডিসিনের সাথে এই লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়। তাই এলার্জির রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী লোশনটি ব্যবহার করবেন।

Read More : Top 5 Neurologist in Bangladesh – Neuromedicine Experts BD

ক্যালামাইন লোশন কোথায় পাওয়া যায়

ক্যালামাইন লোশন আপনার পার্শবর্তী যেকোনো ফার্মেসিতে সহজেই পাওয়া যেতে পারে। তবে কিছু কিছু স্থানে বা অঞ্চলে এই লোশনটি উপলদ্ধ নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি নিজের এলাকার বা শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলোতে এই লোশনটির সন্ধান করুন।

সেখানে আপনি সহজে পেয়ে যাবেন। তাছাড়া যে ডাক্তার আপনাকে এই লোশনটি প্রেস্ক্রাইবড করেছেন তার ফার্মেসিতে কিংবা তার চেম্বারের আশেপাশের ফার্মেসিতে এই লোশনটি সন্ধান করুন।

ক্যালামাইন লোশন এর দাম কত?

বর্তমান সময়ে ক্যালামাইন লোশন ১০০ মিলি পরিমানে পাওয়া যায়। এটি যেকোনো মেডিসিনের ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যাবে। তবে এই লোশনটি ক্রয় করার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সাথে করে নিয়ে গেলে ভালো হবে। এখন যদি কথা বলা যায় ক্যালামাইন লোশন মূল্য নিয়ে।

তাহলে, ১০০ মিলি বোতলে বাংলাদেশে ক্যালামাইন লোশন এর দাম হচ্ছে ৩৮/- টাকা। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর দাম কম বা বেশি হতে পারে। ক্রয় করার আগে লোশনের গাঁয়ে এর মেয়াদ ভালোভাবে দেখে নিবেন। মেয়াদউত্তীর্ণ মেডিসিন কখনোই ক্রয় করবেন না।

FAQ

ক্যালামিন লোশন কি মুখে ব্যবহার করা যায়?

জি হ্যাঁ ক্যালামিন লোশন মুখে ব্যবহার করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু লোশনটি কেবলমাত্র শরীরের বাহ্যিক স্থানে ব্যবহার করার জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে লোশনটি যেন আপনাদের চোখ, মুখ, নাক কিংবা কানে প্রবেশ করতে না পারে।

ক্যালামিন লোশন কি ব্রণের জন্য ভালো?

ক্যালামিন লোশন ব্রণের জন্য ভালো হতে পারে। কেননা এটি ঘামাচির মত জটিল সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে ব্রণের ফলেও প্রায় একই সমস্যা দেখা দেয়। তবে আপনার চিকিৎসক যদি আপনাকে এ লোশনটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তাহলে অবশ্যই ব্যবহার করুন।

ক্যালামাইন লোশন এর উপকারিতা

ক্যালামিন লোশন ব্যবহারের ফলে ত্বকের জ্বালাপোড়া কম হয়, ঘামাচি বা দাহ-এর কারণে সৃষ্ট চুলকানি থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়, ব্যথা দূর করে, অস্বস্তিভাব এবং রোদে পোড়া ত্বক উপশমে লোশনটি অনেক উপকার করে।

উপসংহার

আজকের পোস্টে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম আপনাদের মাঝে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া ক্যালামাইন লোশন এর কাজ কি, এর পার্শপ্রতিক্রিয়া ও এর দাম বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। অতিরিক্তভাবে ক্যালামাইন লোশন কোথায় পাওয়া যায় এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই লোশনটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছি।

আশা করছি পোস্টটি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়েছে। তাই পোস্টটি শেয়ার করে সকলের কাছে পৌঁছে দিন। কোনো কিছু বলার ও জানার থাকলে কমেন্ট করুন। শতভাগ উত্তর দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

By AzimAdmin

Hi, I am a professional Blogger & SEO Expert. I am working on this field since 2019. I've a huge experience in my profession. I also worked on so many projects and websites.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *