পা ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে? পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বর্তমান সময়ে পা ফাটা সমস্যা অনেক জোরালোভাবে দেখা যায়। সময়ে-অসমযয়ে লোকজনের পা ফেটে যাচ্ছে। এর পিছনে যেমন আবহাওয়ার প্রভাব রয়েছে তেমনি কিছু শারীরিক, বংশগত বা ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণও রয়েছে।

তাই আজকে এ বিষয়ের উপর একটি আলোচনা করতে যাচ্ছি। যেখানে বিশেষ করে সেই সকল ভিটামিন নিয়ে আলোচনা করব যেগুলোর অভাবে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। আজকের আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারবেন পা ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে।

তাছাড়া জানিয়ে দেবো পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসা। তাই সার্বিকভাবে আজকে পা ফাটার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সম্পূর্ণ পোস্ট ভালো ভাবে পড়লে আপনারা উপকৃত হবেন। সাথে আপনার পা ফাটার কারণ ও সমাধান জেনে যাবেন।

Read More : পা ফাটা দূর করার ক্রিম বাংলাদেশ – স্কয়ার কোম্পানির ক্রিম

পা ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে?

পা ফাটার পিছনে মূলত দুটি ভিটামিনের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

  1. একটি হচ্ছে ভিটামিন বি এবং
  2. অপরটি হচ্ছে ভিটামিন সি

এই দুটি ভিটামিন মানব শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে এগুলোর অভাব হলে শরীরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পা ফেটে যাওয়া। তবে কেবলমাত্র ভিটামিনের অভাবে পা ফেটে যায় এটি বলা ঠিক হবে না।

কেননা, পা ফাটার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আগেই বলেছি অনেকের বংশগত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ, একজিমা, চুলকানি ইত্যাদি রোগের ফলেও শরীরের ত্বক খসখসে হয়ে পড়া, চামড়া অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া, পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।

কাজেই, আপনার পা ফাটলে অহেতুক ভিটামিন খাওয়া শুরু করবেন না। সর্বপ্রথম দেখুন আপনার এই পা ফাটার ধরন কেমন। অনেকে আছেন তাদের সারা বছর পা ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাদের উচিত একজন ভালো চর্ম বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা।

আর যদি ভিটামিন এর কথা বলি তাহলে সাধারণ ক্ষেত্রে ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি এই দুটি ভিটামিনের অভাব হলে পা ফাটার সমস্যা দেখা যায়।

ভিটামিন বি

ভিটামিন বি খাদ্য তালিকা
ভিটামিন বি খাদ্য তালিকা

ভিটামিন বি হচ্ছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অতীব জরুরি একটি ভিটামিন। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর মধ্যে ৮ আট রকমের ভিটামিনের উপস্থিতি রয়েছে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সহজে ভিটামিন বি শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ত্বকের সুস্থতার জন্যও দরকারি একটি ভিটামিন। ভিটামিন বি এর অভাব হলে ত্বকের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যায় সেগুলো হচ্ছে –

  • ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া
  • ত্বক লাল হয়ে যাওয়া এবং ত্বক ফুলে যাওয়া
  • পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া
  • ঠোঁট ফেটে যাওয়া
  • শরীরে নানা ধরনের চুলকানি দেখা দেওয়া ইত্যাদি

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি খাদ্য তালিকা
ভিটামিন সি খাদ্য তালিকা

ভিটামিন সি হচ্ছে শরীরের ক্ষণস্থায়ী একটি ভিটামিন। আমাদের শরীরের দৈনিক ভিটামিন সি এর প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজন শেষে বাকি ভিটামিনটুকু নিজে নিজে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অর্থাৎ শরীরে ভিটামিন সি কখনো জমা হয়ে থাকে না। কাজেই আমাদেরকে দৈনিক ভিত্তিতে ভিটামিন সি গ্রহণ করতে হয়।

Read More : Top 5 Night Cream in Bangladesh (low to high Budget Cream)

কেউ যদি দৈনিক আঁকারে ভিটামিন সি গ্রহণ না করতে পারে তাহলে তার শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়াও ভিটামিন সি হচ্ছে একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা মানবদেহে ত্বকের কোষকে ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। কাজেই ভিটামিন সি এর অভাব পরিলক্ষিত হলে ত্বক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারে না। অর্থাৎ, ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলস্বরূপ –

  • পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া
  • ত্বকে লালচে ভাব দেখা দেওয়া
  • ত্বকে চুলকানির সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়

পা ফাটার অন্যান্য কারণসমূহ

পা ফাটার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেকের ভিটামিনের অভাবে এই সমস্যা হয়। আবার এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের শরীরে ভিটামিন এর কোন অভাব না থাকা সত্ত্বেও তাদের পা ফেটে যায়। তাদের ক্ষেত্রে এর কারণ বিভিন্ন হতে পারে।

মূলত পা ফাটার পিছনে যে কারণটিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় সেটি হচ্ছে শরীরে পানির অভাব বা পান শূন্যতা। যেটি আমরা ডিহাইড্রেশন বলে থাকি। এর ফলে ত্বকে পানির অভাব দেখা দেয় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পরে। যার কারণে পায়ের চামড়াগুলো শুস্ক হওয়ার ফলে সহজে ফাটতে শুরু করে।

ভিটামিনের অভাব ছাড়া যেসকল কারণে পা ফাটার সমস্যা মানবশরীরে অপরিলক্ষিত হয় সেসব কারণগুলো হলো –

  1. পানিশূন্যতা
  2. শুষ্ক পরিবেশ
  3. অনিয়মিত জুতা পরা
  4. ত্বকের রোগ/চর্মরোগ
  5. হরমোনাল পরিবর্তন

পা ফাটা থেকে মুক্তির উপায়

আপনি যদি নিজের পা ফাটার কারণ চিহ্নিত করতে পেরেছেন তাহলে আপনি সহজেই নিজের পা ফাটা থেকে মুক্তির উপায় বের করতে পারবেন। প্রথমে কারণ চিহ্নিত করে এর প্রতিকার প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ আপনার শরীরে যদি পানিশূন্যতা দেখা দেয় তাহলে বেশি বেশি করে পানি পান করুন এবং ত্বককে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন।

তাছাড়াও আপনি যদি শুস্ক পরিবেশে বাস করে থাকেন তবে নিজের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিন। ত্বকে কোনো রোগ/চর্মরোগ হয়ে থাকলে চর্মবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। এসব প্রতিকার গ্রহণ করলেই আপনি পা ফাটার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন। নিজের পাকে আগের মতো সুন্দর, কোমল ও সতেজ করতে পারবেন।

পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

আসলে ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যেগুলো প্রয়োগ করলে পা ফাটা দূর করা যায়। এই উপায় বা ঘরোয়া চিকিৎসাগুলো অত্যন্ত কার্যকরী এবং এদের কোন পার্শ্ব প্রতিক নেই। কাজেই কেউ উপায় গুলো আপনার পায়ের জন্য এবং আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে। উপায় গুলো হচ্ছে –

  • মধু : পা ফাটা দূর করার জন্য মধু অনেক ভালো একটি সমাধান। মধু এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিফাঙ্গাল হওয়ায় ত্বকের সংক্রমণ রোধ করে। ফলে ফেটে যাওয়া পা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
  • লেবুর রস : লেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। যেটি এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। যা ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বকের যত্ন করে। পায়ের গোড়ালিতে লেবুর রস প্রয়োগ করলে সেখানকার ত্বক পুনর্জীবিত হতে শুরু করবে এবং দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়া ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাসগুলোকে প্রতিহত করবে।
  • নারিকেল তেল : পা ডিহাইড্রেট হলে বা ত্বকের মশ্চুরাইজ নষ্ট হলে পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। এমন সময়ে পায়ের ত্বককে মশ্চুরাইজ করতে নারিকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে নারিকেল তেল পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
  • অলিভ-অয়েল তেল : পাকে হাইড্রেট করতে অলিভ-অয়েল তেলও অনেক ভালো কাজ করে। সম্ভব হলে অলিভ-অয়েল তেলের সাথে গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এতে প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার ত্বক মশ্চুরাইজ হবে ও পা ফাটা সমস্যা দূর হবে।
  • গরম পানি : ১ লিটার হালকা সুষম গরম পানিতে ১চা-চামচ পরিমাণ লবণ মিশিয়ে তাতে কিছু সময় নিজের পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে করে আপনার পায়ের গোড়ালি যথেষ্ট পরিমাণ হাইড্রেট হবে। সাথে লবণের প্রভাবে পায়ের গোড়ালির ত্বকে সংক্রমিত হওয়া ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসগুলো দূর হবে।

Read More : লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম | লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম

পা ফাটার হোমিওপ্যাথি ঔষধ

পা ফাটার হোমিওপ্যাথি ঔষধ বলতে তেমন কোনো মলম/লোশন কিংবা জেল নেই। তবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়া গ্লিসারিন নামক উপাদান ফাটা ত্বক পনরুদ্ধারে এই যাবৎ সবচেয়ে বেশি কার্যকরী এটি ঔষধ/উপাদান। বিভিন্ন চর্মবিশেষজ্ঞ ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে এই গ্লিসারিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আমি স্বয়ং দীর্ধদিন পা ফাটা রোগে ভুগেছি। এমন যন্ত্রনা হতো যেটি বলে বুঝানো সম্ভব নেই। আমার পা ফেঁটে গিয়ে র’ক্ত বের হতো। যার ফলে হাটতে পারতাম না। হাঁটলেও প্রতিবন্ধীদের মতো হাটতে হতো। তাছাড়াও সমাজে নিজের পা লুকিয়ে রাখতে হতো।

সব সময় ভাবতাম কেউ আমার এমন পা দেখলে কি ভাববে। নামাজ পড়তেও কষ্ট হতো। আমি নিজে এই গ্লিসারিন ব্যবহার করেছি। আলহাদুলিল্লাহ এটি অনেক কার্যকরী একটি জিনিস। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ থাকবে এই ব্যবহার করুন।

গ্লিসারিন এর ব্যবহারবিধি:

  1. আপনি দিনে দুইবার গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারবেন।
  2. সকালে ১বার এবং রাতে ঘুমানোর আগে ১ বার গ্লিসারিন ব্যবহার করুন।
  3. ব্যবহার করার আগে ত্বক অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
  4. আপনি সরাসরি গ্লিসারিন তুলোর মধ্যে নিয়ে পায়ে লাগিয়ে নিতে পারেন।
  5. অথবা, অলিভ-অয়েল কিংবা নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
  6. আপনার পা ফাটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এটি ব্যবহার করে যেতে হবে।
  7. শুধু পা ফাটা নয় বরং শরীরের অন্যান্য স্থানে ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

উপসংহার

আজকের পোস্টে পা ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে এবং পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় আপনাদের মাঝে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া পা ফাটার অন্যান্য কারণসমূহ ও পা ফাটার হোমিওপ্যাথি ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

আশা করছি পোস্টটি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়েছে। যারা পা ফাটার কারণ ও এর প্রতিকার খুঁজছেন তাদের জন্যও পোস্টটি সহায়ক হবে। তাই পোস্টটি শেয়ার করে সকলের কাছে পৌঁছে দিন। কোনো কিছু বলার ও জানার থাকলে কমেন্ট করুন। শতভাগ উত্তর দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

By AzimAdmin

Hi, I am a professional Blogger & SEO Expert. I am working on this field since 2019. I've a huge experience in my profession. I also worked on so many projects and websites.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *